‘ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন’ শীর্ষক সিরিজ
গনতন্ত্র
নিয়ে আলোচনার শুরুর দিকে আমরা কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন পরিস্কার করতে চাই ।
বিভ্রান্তি নিরসনে এই সহজ প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে বাস্তব ধারণা থাকা প্রয়োজন ।
পরবর্তী আলোচনা বুঝতে এই পরিক্রমণিকা আমাদের সহায়তা করবে ।
>> গনতন্ত্র কি কোন জীবন বিধান ?
গনতন্ত্র কোন জীবন বিধান নয় । এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ মাত্র । ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান । এতে আছে ধর্মীয় বিশ্বাস , ব্যক্তিগত জীবনের জন্য বিধান , অর্থনৈতিক বিধান , রাজনৈতিক মতবাদ সব । গনতন্ত্রে কোন ধর্মীয় মতবাদ ,ব্যক্তিগত জীবনের জন্য কোন নিয়ম নীতি, সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মতবাদ নেই । আমেরিকা ধর্মে খ্রিষ্টান , অর্থনৈতিক ভাবে পুজিবাদী , রাজনীতিতে গনতন্ত্র । একইভাবে বিভিন্ন দেশে এই কম্বিনেশন বিভিন্ন ।
>> গনতন্ত্রের প্রকৃত রুপ কী ?
গনতন্ত্রের কোন নির্দিষ্ট রুপ নেই । এর মূলকথা হলো জনগন শাসক বা পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচন করবে । বিভিন্ন দেশে গনতান্ত্রিক সরকার কাঠামোর রুপ বিভিন্ন । বাংলাদেশের সাথে ভারত কিংবা আমেরিকার গনতন্ত্রের বিস্তর ফারাক । বৃটেনে এখনও রাণী আছে এবং যদিও রাণীর তেমন কোন ক্ষমতা নেই তারপরও রাণী চাইলে নাকি যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কিংবা বাতিল করতে পারেন !
>> আমেরিকা কি গনতন্ত্র চায় ?
পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর কাছে গনতন্ত্রের শ্লোগান তাদের স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ার মাত্র । তারা গনতন্ত্র চায় বটে তবে আপোষহীনভাবে নয় । গনতন্ত্রের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ বেশি , খেল জমে ভালো । এটা তাদের লাভ । তারা যদি গনতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষহীন হয়ে থাকে , তাহলে তারা মিশরের হোসনি মোবারক কে কেন সাপোর্ট দিত ? সৌদি রাজপরিবারের সাথে কেন তাদের এত সখ্য ? পাকিস্তানের সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ কে সমর্থন ও সহযোগিতা দিত কেন ?
আসলে গনতন্ত্র তাদের এমন কোন আদর্শ নয় যা তারা সব দেশে যেকোন মূল্যে প্রতিষ্ঠা করবেই ,বরং স্বার্থোদ্ধারের মুখরোচক বুলি মাত্র ।
তবে আমেরিকা ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়া জার্মানি প্রভৃতি উন্নত রাষ্ট্র তাদের রাজনীতি এবং তাদের গনতান্ত্রিক রীতিনীতি ভালোমতই প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং এতে তারা সত্যিকারার্থেই লাভবানও হচ্ছে ।
সেখানে কোন রাজনৈতিক সংঘাত নেই , লগি বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মী হত্যা করা হয়না , গান পাউডার দিয়ে গাড়ি পোড়ানো হয়না , গুলি করে কিংবা পিটিয়ে ছাত্রহত্যা হয়না , পুলিশ দিয়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন তেমন নেই । অথচ ঠিক ঠিক নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন হচ্ছে , শাসনক্ষমতার হাতবদল হচ্ছে ।
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-২ । লেখক- Muhsin Abdullah Mu )
[[রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের দেড় হাজার বছর পেরিয়ে গেছে । পৃথিবীতে এসেছে অনেক পরিবর্তন । মুসলমানরা হয়েছে খেলাফতহারা । মুসলিমরাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত জাতি । তবু থেমে থাকেনি পুনর্জাগরণের কাজ, আন্দোলন । অনেক নতুন প্রেক্ষাপট , নতুন পরিভাষা, নতুন মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে । এসব নিয়ে ছড়িয়েছে অনেক বিভ্রান্তি । গ্রহণ-বর্জনের দোলাচলে মুসলিম জাতি হয়েছে দ্বিধাবিভক্ত । এমনি একটি বিষয় –‘গনতন্ত্র’ । কেউ কেউ এটাকে একবাক্যে কুফর-শিরক বলে নাকচ করেছেন, কেউবা শর্তসাপেক্ষে গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন । কেউ কেউ সংস্কারের পক্ষে ।
এ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের মাঝে রয়েছে বিস্তর বিতর্ক । লিখেছেন অনেকেই । বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে স্ট্যাটাস আকারে পোস্ট করার চিন্তা করেছি । ইনশাআল্লাহ প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি করে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা থাকবে । শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন । আশা করছি, সব প্রশ্নের জবাব মিলবে । আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন । আমীন । গতকালের পোস্ট- http://goo.gl/AFXK5 ]]
>> গনতন্ত্র কি কোন জীবন বিধান ?
গনতন্ত্র কোন জীবন বিধান নয় । এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ মাত্র । ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান । এতে আছে ধর্মীয় বিশ্বাস , ব্যক্তিগত জীবনের জন্য বিধান , অর্থনৈতিক বিধান , রাজনৈতিক মতবাদ সব । গনতন্ত্রে কোন ধর্মীয় মতবাদ ,ব্যক্তিগত জীবনের জন্য কোন নিয়ম নীতি, সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মতবাদ নেই । আমেরিকা ধর্মে খ্রিষ্টান , অর্থনৈতিক ভাবে পুজিবাদী , রাজনীতিতে গনতন্ত্র । একইভাবে বিভিন্ন দেশে এই কম্বিনেশন বিভিন্ন ।
>> গনতন্ত্রের প্রকৃত রুপ কী ?
গনতন্ত্রের কোন নির্দিষ্ট রুপ নেই । এর মূলকথা হলো জনগন শাসক বা পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচন করবে । বিভিন্ন দেশে গনতান্ত্রিক সরকার কাঠামোর রুপ বিভিন্ন । বাংলাদেশের সাথে ভারত কিংবা আমেরিকার গনতন্ত্রের বিস্তর ফারাক । বৃটেনে এখনও রাণী আছে এবং যদিও রাণীর তেমন কোন ক্ষমতা নেই তারপরও রাণী চাইলে নাকি যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কিংবা বাতিল করতে পারেন !
>> আমেরিকা কি গনতন্ত্র চায় ?
পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর কাছে গনতন্ত্রের শ্লোগান তাদের স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ার মাত্র । তারা গনতন্ত্র চায় বটে তবে আপোষহীনভাবে নয় । গনতন্ত্রের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে তাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ বেশি , খেল জমে ভালো । এটা তাদের লাভ । তারা যদি গনতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষহীন হয়ে থাকে , তাহলে তারা মিশরের হোসনি মোবারক কে কেন সাপোর্ট দিত ? সৌদি রাজপরিবারের সাথে কেন তাদের এত সখ্য ? পাকিস্তানের সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ কে সমর্থন ও সহযোগিতা দিত কেন ?
আসলে গনতন্ত্র তাদের এমন কোন আদর্শ নয় যা তারা সব দেশে যেকোন মূল্যে প্রতিষ্ঠা করবেই ,বরং স্বার্থোদ্ধারের মুখরোচক বুলি মাত্র ।
তবে আমেরিকা ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়া জার্মানি প্রভৃতি উন্নত রাষ্ট্র তাদের রাজনীতি এবং তাদের গনতান্ত্রিক রীতিনীতি ভালোমতই প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং এতে তারা সত্যিকারার্থেই লাভবানও হচ্ছে ।
সেখানে কোন রাজনৈতিক সংঘাত নেই , লগি বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মী হত্যা করা হয়না , গান পাউডার দিয়ে গাড়ি পোড়ানো হয়না , গুলি করে কিংবা পিটিয়ে ছাত্রহত্যা হয়না , পুলিশ দিয়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন তেমন নেই । অথচ ঠিক ঠিক নির্দিষ্ট সময় পরপর নির্বাচন হচ্ছে , শাসনক্ষমতার হাতবদল হচ্ছে ।
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-২ । লেখক- Muhsin Abdullah Mu )
[[রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের দেড় হাজার বছর পেরিয়ে গেছে । পৃথিবীতে এসেছে অনেক পরিবর্তন । মুসলমানরা হয়েছে খেলাফতহারা । মুসলিমরাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত জাতি । তবু থেমে থাকেনি পুনর্জাগরণের কাজ, আন্দোলন । অনেক নতুন প্রেক্ষাপট , নতুন পরিভাষা, নতুন মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে । এসব নিয়ে ছড়িয়েছে অনেক বিভ্রান্তি । গ্রহণ-বর্জনের দোলাচলে মুসলিম জাতি হয়েছে দ্বিধাবিভক্ত । এমনি একটি বিষয় –‘গনতন্ত্র’ । কেউ কেউ এটাকে একবাক্যে কুফর-শিরক বলে নাকচ করেছেন, কেউবা শর্তসাপেক্ষে গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন । কেউ কেউ সংস্কারের পক্ষে ।
এ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের মাঝে রয়েছে বিস্তর বিতর্ক । লিখেছেন অনেকেই । বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে স্ট্যাটাস আকারে পোস্ট করার চিন্তা করেছি । ইনশাআল্লাহ প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি করে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা থাকবে । শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন । আশা করছি, সব প্রশ্নের জবাব মিলবে । আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন । আমীন । গতকালের পোস্ট- http://goo.gl/AFXK5 ]]
‘ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন’ শীর্ষক সিরিজ স্ট্যাটাসের আজ পড়ুন তৃতীয় পর্ব ।
> গনতন্ত্র কি জনগনের 'সার্বভৌমত্বের' কথা বলে ?অথবা গনতন্ত্রে 'জনগনের সার্বভৌমত্বের' ধারণা কি জরুরি ?
গনতন্ত্রকে সরাসরি নির্ভেজাল শিরক যারা বলছেন তারা এই বিষয়টিকেই গুরুতরভাবে উত্থাপন করছেন যে , গনতন্ত্র 'জনগনের সার্বভৌমত্বের' কথা বলে যেখানে প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ।
কিন্তু অধিকাংশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বা সমাজবিজ্ঞানীর মতে গনতন্ত্রে জনগনের সার্বভৌমত্বের ধারণা কোন আবশ্যক বিষয় নয় । অর্থাত্ এটি গনতন্ত্রের মূল বিষয় নয় । প্রকৃত ব্যাপারটা হলো " গনতন্ত্রের মূলকথা 'জনগনের সার্বভৌমত্ব' নয় , বরং 'শাসনব্যবস্থায় জনগনের অংশীদারিত্ব বা অংশগ্রহণ' । প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া সংজ্ঞা আমরা একটু পরেই তুলে ধরবো ।
'জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স ' এই কথাটি গনতন্ত্রের কোন মৌলিক বিষয় নয় । এটা বাংলাদেশের অতিউত্সাাহী রাজনীতিকদের অতিরঞ্জিত বক্তব্য । মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি । প্রকৃত গনতান্ত্রিক দেশগুলোতে এরকম ধারণা নেই ।
আসুন দেখি বিশ্ববিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া গনতন্ত্রের সংজ্ঞা -
¤ Democracy is not a way of governing whether by majority or otherwise but primarily a way of determining who shall govern and broadly to what ends..(Prof. R.M. MacIver )
-গনতন্ত্র বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের বা অন্য কারো দ্বারা শাসনকার্য পরিচালিত হওয়ার পদ্ধতিকে বোঝায় না , বরং প্রধানত এটা কে বা কারা পরিচালনা করবে এবং মোটামুটিভাবে কোন্ উদ্দেশ্যে শাসন করবে তা নির্ধারণ করারই উপায় বিশেষ ।
¤ Democracy implies that government which shall rest on the active consent of the governed....(Prof. C.F. Strong)
-যেখানে শাসনব্যবস্থা শাসিতের সক্রিয় সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত তাই গনতন্ত্র ।
¤ Democracy presupposes a fundamental agreement as to the methods by which political and social changes shall be brought about....(Prof. Carle. J. Friedrick)
-রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আনয়নের একটি প্রধান স্বীকৃত উপায় হলো গনতন্ত্র ।
¤ Democracy may either be a form of government, a form of state, a form of society, or a combination of all the three....(Prof. Giddings)
-গনতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা. রাষ্ট্রব্যবস্থা , সমাজব্যবস্থা অথবা এসবের সম্মিলিত রুপ ।
¤ Democracy is an ideal, is a society of equals in the sense that each is an integral and irreplacable part of the whole....(Prof. C. D. Burns)
-গনতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকেই সমান এ অর্থে যে প্রত্যেকেই সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অংশ ।
¤ Democracy is a theory of society as well as a theory of government and from that point of view its main theme is liberty and equality....(Prof. Lindsay)
-গনতন্ত্র একাধারে একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রনৈতিক মতবাদ এবং সে হিসেবে এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো স্বাধীনতা ও সাম্য ।
¤ Democracy is that form of government in which the ruling of a state is legaly vested not in any particular class or classes, but in the members of the community as a whole.....(Prof. Lord bryce/ Modern democracies/ vol.1/p.20)
-গনতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যাতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা আইনগতভাবে কোন নির্দিষ্ট শ্রেণী বা শ্রেণীসমূহের হাতে নিয়োজিত না থেকে বরং সমাজের সকল সদস্যের হাতে নিয়োজিত থাকে ।
¤ Democracy is a government in which everyone has a share....(Prof. Seeley/ Introduction to political science)
-গনতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে ।
¤ গনতন্ত্র এমন এক ধরণের সরকার ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে যাতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা ব্যাপকভাবে সমাজের সকল সদস্যের উপর ন্যস্ত থাকে । (-হিরোডেটাস)
¤ Democracy is such a government in which governing is a comparatively large fraction of the total population....( Prof. Dicey)
-গনতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকবর্গ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।
¤ A democratic state is simply one in which the community as a whole posseses sovereign authority maintains ultimate control over affairs and determines what post of governmental machienary shall be set up because democracy as a form of state is not merely a mode of government but merely a mode of appointing controlling and dismissing government..... (Prof. Hearnshaw/ Democracy of the crossways/ p.20-21)
-গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সমগ্র সম্প্রদায়ের হাতে সার্বভৌম কর্তৃত্ব ন্যস্ত থাকে , সকল বিষয়ে সম্প্রদায়ের হাতে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান এবং সেটিই নির্ধারন করে কী ধরনের সরকারি যন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে । কেননা গনতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার পদ্ধতিই নিয়ন্ত্রণ করেনা বরং তা সরকারের নিয়োগ , নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে ।
¤ Democracy is a system of government by discussion....( Barker)
-গনতন্ত্র একটি আলোচনা নির্ভর সরকারব্যবস্থা ।
¤ গনতন্ত্র বলতে আমরা সেই শাসনব্যবস্থাকে বুঝি যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সব বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সকলের মধ্যে নিজনিজ মত প্রকাশ করতে পারে । (-স্যার ক্রিপস)
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের Democracy is a government of the people, by the people and for the people....(Abraham Lincoln) কথাটিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় । কিন্তু এটি আসলে তিনি সংজ্ঞা হিসেবে দেননি । এটি তাঁর একটি রাজনৈতিক বক্তব্য বা শ্লোগান । তিনি গনতন্ত্রের প্রবক্তা বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ছিলেননা । ছিলেন একজন সফল রাজনীতিক আর পেশায় আইনজীবি । তিনি খুব ভালো বক্তৃতা করতেন । গেটিসবার্গ বক্তৃতা তাঁর একটি বিখ্যাত বক্তৃতা । অথচ তাঁর এই বক্তব্যটাকে গনতন্ত্রের সংজ্ঞা হিসেবে তুলে ধরে গনতন্ত্র মাত্রই শিরক বলার চেষ্টা করা হচ্ছে । যদিও এই বক্তব্যেও 'জনগনের সার্বভৌমত্ব নয় , জনগনের অংশীদারিত্বে'র বিষয়টি ফুটে উঠেছে ।
এছাড়াও গনতন্ত্রের নানান রুপ- প্রত্যক্ষ গনতন্ত্র ,পরোক্ষ গনতন্ত্র এগুলোরও রয়েছে নানারকম সংজ্ঞা । কোনটিই জনগনের 'সার্বভৌমত্ব'কে অত্যাবশ্যক হিসেবে চিহ্নিত করেনা । আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ,এখন পর্যন্ত গনতন্ত্রের কোন সর্বসম্মত সংজ্ঞা নেই।
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-৩ । By- Muhsin Abdullah Mu )
গতকালের পোস্ট এখানে- http://goo.gl/8KsXt
> গনতন্ত্র কি জনগনের 'সার্বভৌমত্বের' কথা বলে ?অথবা গনতন্ত্রে 'জনগনের সার্বভৌমত্বের' ধারণা কি জরুরি ?
গনতন্ত্রকে সরাসরি নির্ভেজাল শিরক যারা বলছেন তারা এই বিষয়টিকেই গুরুতরভাবে উত্থাপন করছেন যে , গনতন্ত্র 'জনগনের সার্বভৌমত্বের' কথা বলে যেখানে প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ।
কিন্তু অধিকাংশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বা সমাজবিজ্ঞানীর মতে গনতন্ত্রে জনগনের সার্বভৌমত্বের ধারণা কোন আবশ্যক বিষয় নয় । অর্থাত্ এটি গনতন্ত্রের মূল বিষয় নয় । প্রকৃত ব্যাপারটা হলো " গনতন্ত্রের মূলকথা 'জনগনের সার্বভৌমত্ব' নয় , বরং 'শাসনব্যবস্থায় জনগনের অংশীদারিত্ব বা অংশগ্রহণ' । প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া সংজ্ঞা আমরা একটু পরেই তুলে ধরবো ।
'জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স ' এই কথাটি গনতন্ত্রের কোন মৌলিক বিষয় নয় । এটা বাংলাদেশের অতিউত্সাাহী রাজনীতিকদের অতিরঞ্জিত বক্তব্য । মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি । প্রকৃত গনতান্ত্রিক দেশগুলোতে এরকম ধারণা নেই ।
আসুন দেখি বিশ্ববিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া গনতন্ত্রের সংজ্ঞা -
¤ Democracy is not a way of governing whether by majority or otherwise but primarily a way of determining who shall govern and broadly to what ends..(Prof. R.M. MacIver )
-গনতন্ত্র বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের বা অন্য কারো দ্বারা শাসনকার্য পরিচালিত হওয়ার পদ্ধতিকে বোঝায় না , বরং প্রধানত এটা কে বা কারা পরিচালনা করবে এবং মোটামুটিভাবে কোন্ উদ্দেশ্যে শাসন করবে তা নির্ধারণ করারই উপায় বিশেষ ।
¤ Democracy implies that government which shall rest on the active consent of the governed....(Prof. C.F. Strong)
-যেখানে শাসনব্যবস্থা শাসিতের সক্রিয় সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত তাই গনতন্ত্র ।
¤ Democracy presupposes a fundamental agreement as to the methods by which political and social changes shall be brought about....(Prof. Carle. J. Friedrick)
-রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আনয়নের একটি প্রধান স্বীকৃত উপায় হলো গনতন্ত্র ।
¤ Democracy may either be a form of government, a form of state, a form of society, or a combination of all the three....(Prof. Giddings)
-গনতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা. রাষ্ট্রব্যবস্থা , সমাজব্যবস্থা অথবা এসবের সম্মিলিত রুপ ।
¤ Democracy is an ideal, is a society of equals in the sense that each is an integral and irreplacable part of the whole....(Prof. C. D. Burns)
-গনতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকেই সমান এ অর্থে যে প্রত্যেকেই সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অংশ ।
¤ Democracy is a theory of society as well as a theory of government and from that point of view its main theme is liberty and equality....(Prof. Lindsay)
-গনতন্ত্র একাধারে একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রনৈতিক মতবাদ এবং সে হিসেবে এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো স্বাধীনতা ও সাম্য ।
¤ Democracy is that form of government in which the ruling of a state is legaly vested not in any particular class or classes, but in the members of the community as a whole.....(Prof. Lord bryce/ Modern democracies/ vol.1/p.20)
-গনতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যাতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা আইনগতভাবে কোন নির্দিষ্ট শ্রেণী বা শ্রেণীসমূহের হাতে নিয়োজিত না থেকে বরং সমাজের সকল সদস্যের হাতে নিয়োজিত থাকে ।
¤ Democracy is a government in which everyone has a share....(Prof. Seeley/ Introduction to political science)
-গনতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে ।
¤ গনতন্ত্র এমন এক ধরণের সরকার ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে যাতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা ব্যাপকভাবে সমাজের সকল সদস্যের উপর ন্যস্ত থাকে । (-হিরোডেটাস)
¤ Democracy is such a government in which governing is a comparatively large fraction of the total population....( Prof. Dicey)
-গনতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকবর্গ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।
¤ A democratic state is simply one in which the community as a whole posseses sovereign authority maintains ultimate control over affairs and determines what post of governmental machienary shall be set up because democracy as a form of state is not merely a mode of government but merely a mode of appointing controlling and dismissing government..... (Prof. Hearnshaw/ Democracy of the crossways/ p.20-21)
-গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সমগ্র সম্প্রদায়ের হাতে সার্বভৌম কর্তৃত্ব ন্যস্ত থাকে , সকল বিষয়ে সম্প্রদায়ের হাতে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান এবং সেটিই নির্ধারন করে কী ধরনের সরকারি যন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে । কেননা গনতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার পদ্ধতিই নিয়ন্ত্রণ করেনা বরং তা সরকারের নিয়োগ , নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে ।
¤ Democracy is a system of government by discussion....( Barker)
-গনতন্ত্র একটি আলোচনা নির্ভর সরকারব্যবস্থা ।
¤ গনতন্ত্র বলতে আমরা সেই শাসনব্যবস্থাকে বুঝি যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সব বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সকলের মধ্যে নিজনিজ মত প্রকাশ করতে পারে । (-স্যার ক্রিপস)
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের Democracy is a government of the people, by the people and for the people....(Abraham Lincoln) কথাটিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় । কিন্তু এটি আসলে তিনি সংজ্ঞা হিসেবে দেননি । এটি তাঁর একটি রাজনৈতিক বক্তব্য বা শ্লোগান । তিনি গনতন্ত্রের প্রবক্তা বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ছিলেননা । ছিলেন একজন সফল রাজনীতিক আর পেশায় আইনজীবি । তিনি খুব ভালো বক্তৃতা করতেন । গেটিসবার্গ বক্তৃতা তাঁর একটি বিখ্যাত বক্তৃতা । অথচ তাঁর এই বক্তব্যটাকে গনতন্ত্রের সংজ্ঞা হিসেবে তুলে ধরে গনতন্ত্র মাত্রই শিরক বলার চেষ্টা করা হচ্ছে । যদিও এই বক্তব্যেও 'জনগনের সার্বভৌমত্ব নয় , জনগনের অংশীদারিত্বে'র বিষয়টি ফুটে উঠেছে ।
এছাড়াও গনতন্ত্রের নানান রুপ- প্রত্যক্ষ গনতন্ত্র ,পরোক্ষ গনতন্ত্র এগুলোরও রয়েছে নানারকম সংজ্ঞা । কোনটিই জনগনের 'সার্বভৌমত্ব'কে অত্যাবশ্যক হিসেবে চিহ্নিত করেনা । আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ,এখন পর্যন্ত গনতন্ত্রের কোন সর্বসম্মত সংজ্ঞা নেই।
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-৩ । By- Muhsin Abdullah Mu )
গতকালের পোস্ট এখানে- http://goo.gl/8KsXt
‘ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন’ শীর্ষক সিরিজ স্ট্যাটাসের আজ পড়ুন চতুর্থ পর্ব ।
>>অনেকে ইসলামী গণতন্ত্র শব্দটি ব্যবহারের বিরোধিতা করে বলেন, ইসলাম শুধুই ইসলাম। এর সাথে আর কিছুই নেই। আমি এ বিষয়ে একমত। ইসলামে যাবতীয় সমস্যার উত্তম সমাধান রয়েছে আর সকল সমাধান মিলেই ইসলাম। ইসলামী গণতন্ত্র শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়েছে বা কেন বলা যাবে তা ব্যাখ্যা করছি। মূলত সাধারণ/ আধুনিক/ পশ্চিমা গণতন্ত্র আর ইসলামের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। তাই বলে ইসলামে গণতন্ত্রের চর্চা নেই তা নয়। সাধারণ গণতন্ত্রের সুবিধা-অসুবিধা আছে কিন্তু ইসলাম যে গণতন্ত্রের শিক্ষা দেয় তার অসুবিধা নেই বললেই চলে।
ইসলামের ক্ষেত্র ব্যাপক, তেমনি গণতন্ত্রের ও রয়েছে অনেক রূপ । যেমনঃ
Anticipatory, Athenian, Consensus, Deliberative, Demarchy, Direct, Economic, Grassroots, Illiberal, Inclusive, Liberal, Messianic, Non-partisan, Participatory, Radical, Representative, Representative direct, Republican, Social, Sociocracy, Soviet, Totalitarian....
সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের একক কোন সংজ্ঞা নেই, একেক জন একেক ধরনের সংজ্ঞা দিয়েছেন। যারা গণতন্ত্রকে হারাম বলেন তারা শুধু একটি সংজ্ঞাই জানেন, আর তা হল-
“গণতন্ত্র হল জনগণের সরকার, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার, এবং জনগণের জন্য গঠিত সরকার”
অতএব, গণতন্ত্র হারাম!
কিন্তু এটাতো শুধু আব্রাহাম লিঙ্কনের (Abraham Lincoln) বক্তব্য। তিনি তার দুমিনিটকাল স্থায়ী ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বরে প্রদত্ত গেটিসবার্গ বক্তৃতায় বলেন :That Government of the people, by the People, for the People, shall not perish from the earth.
আমি যদি বলি সঙ্গীত হারাম না হালাল? কি উত্তর দেবেন?
সঙ্গীতের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা হচ্ছে- "গীত,বাদ্য ও নৃত্য - এই তিনটিকে একত্রে সংগীত বলে।" এটা বিভিন্ন সংস্কৃত ভাষার বইতে উল্লেখ করা হয়েছে (গীতং বাদ্যং তথা নৃত্যং ত্রয়ং সঙ্গীতমুচ্যতে)। এই সংজ্ঞামতে সঙ্গীত হারাম। তা যে ধরনেরই হোক।
কিন্তু সঙ্গীতের আরও একটি সংজ্ঞা হচ্ছে - "স্বর ও তালবদ্ধ মনোরঞ্জক রচনাকে বলা হয় সংগীত।" এই সংজ্ঞানুযায়ী শর্তসাপেক্ষে তা হালাল হতে পারে।
তেমনি গণতন্ত্র আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রতিষ্ঠিত কোন মতবাদ নয়। ইসলামের যে অংশটুকু গণতন্ত্রের শিক্ষা দেয় তাকে আমরা ইসলামী গণতন্ত্র বলতে পারি। যেমন সঙ্গীতের যে অংশটুকু ইসলামী অনুশাসন লংঘন করে না, তাকে আমরা ইসলামী সঙ্গীত বলতে পারি।
একেক দেশে একেক রকম গণতন্ত্র চালু রয়েছে। আর বাস্তবতা হল ইসলামের মধ্যে একরকমের গণতন্ত্র চর্চা করা হয়েছে। এটাই সঠিক এবং বাকি গুলো হারাম। সঙ্গীতের মধ্যে যেগুলো হালাল সেগুলোকে যেমন আমরা ইসলামী সঙ্গীত বলতে পারি তেমনি ইসলামে যে গণতান্ত্রিক শিক্ষা (যা ইসলামের বাইরে নয়, বরং ইসলাম যা শেখায়) রয়েছে তাকে আমরা ইসলামী গণতন্ত্র বলতে পারি (সামগ্রিকভাবে শুধুই ইসলাম)।
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-০৪ । By- Abdullah Al Tahsan )
[[রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের দেড় হাজার বছর পেরিয়ে গেছে । পৃথিবীতে এসেছে অনেক পরিবর্তন । মুসলমানরা হয়েছে খেলাফতহারা । মুসলিমরাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত জাতি । তবু থেমে থাকেনি পুনর্জাগরণের কাজ, আন্দোলন । অনেক নতুন প্রেক্ষাপট , নতুন পরিভাষা, নতুন মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে । এসব নিয়ে ছড়িয়েছে অনেক বিভ্রান্তি । গ্রহণ-বর্জনের দোলাচলে মুসলিম জাতি হয়েছে দ্বিধাবিভক্ত । এমনি একটি বিষয় –‘গনতন্ত্র’ । কেউ কেউ এটাকে একবাক্যে কুফর-শিরক বলে নাকচ করেছেন, কেউবা শর্তসাপেক্ষে গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন । কেউ কেউ সংস্কারের পক্ষে ।
এ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের মাঝে রয়েছে বিস্তর বিতর্ক । লিখেছেন অনেকেই । বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে স্ট্যাটাস আকারে পোস্ট করার চিন্তা করেছি । ইনশাআল্লাহ প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি করে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা থাকবে । শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন । আশা করছি, সব প্রশ্নের জবাব মিলবে । আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন । আমীন । গতকালের পোস্ট-http://goo.gl/p47G8 ]]
>>অনেকে ইসলামী গণতন্ত্র শব্দটি ব্যবহারের বিরোধিতা করে বলেন, ইসলাম শুধুই ইসলাম। এর সাথে আর কিছুই নেই। আমি এ বিষয়ে একমত। ইসলামে যাবতীয় সমস্যার উত্তম সমাধান রয়েছে আর সকল সমাধান মিলেই ইসলাম। ইসলামী গণতন্ত্র শব্দটি কেন ব্যবহার করা হয়েছে বা কেন বলা যাবে তা ব্যাখ্যা করছি। মূলত সাধারণ/ আধুনিক/ পশ্চিমা গণতন্ত্র আর ইসলামের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। তাই বলে ইসলামে গণতন্ত্রের চর্চা নেই তা নয়। সাধারণ গণতন্ত্রের সুবিধা-অসুবিধা আছে কিন্তু ইসলাম যে গণতন্ত্রের শিক্ষা দেয় তার অসুবিধা নেই বললেই চলে।
ইসলামের ক্ষেত্র ব্যাপক, তেমনি গণতন্ত্রের ও রয়েছে অনেক রূপ । যেমনঃ
Anticipatory, Athenian, Consensus, Deliberative, Demarchy, Direct, Economic, Grassroots, Illiberal, Inclusive, Liberal, Messianic, Non-partisan, Participatory, Radical, Representative, Representative direct, Republican, Social, Sociocracy, Soviet, Totalitarian....
সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের একক কোন সংজ্ঞা নেই, একেক জন একেক ধরনের সংজ্ঞা দিয়েছেন। যারা গণতন্ত্রকে হারাম বলেন তারা শুধু একটি সংজ্ঞাই জানেন, আর তা হল-
“গণতন্ত্র হল জনগণের সরকার, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার, এবং জনগণের জন্য গঠিত সরকার”
অতএব, গণতন্ত্র হারাম!
কিন্তু এটাতো শুধু আব্রাহাম লিঙ্কনের (Abraham Lincoln) বক্তব্য। তিনি তার দুমিনিটকাল স্থায়ী ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বরে প্রদত্ত গেটিসবার্গ বক্তৃতায় বলেন :That Government of the people, by the People, for the People, shall not perish from the earth.
আমি যদি বলি সঙ্গীত হারাম না হালাল? কি উত্তর দেবেন?
সঙ্গীতের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা হচ্ছে- "গীত,বাদ্য ও নৃত্য - এই তিনটিকে একত্রে সংগীত বলে।" এটা বিভিন্ন সংস্কৃত ভাষার বইতে উল্লেখ করা হয়েছে (গীতং বাদ্যং তথা নৃত্যং ত্রয়ং সঙ্গীতমুচ্যতে)। এই সংজ্ঞামতে সঙ্গীত হারাম। তা যে ধরনেরই হোক।
কিন্তু সঙ্গীতের আরও একটি সংজ্ঞা হচ্ছে - "স্বর ও তালবদ্ধ মনোরঞ্জক রচনাকে বলা হয় সংগীত।" এই সংজ্ঞানুযায়ী শর্তসাপেক্ষে তা হালাল হতে পারে।
তেমনি গণতন্ত্র আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রতিষ্ঠিত কোন মতবাদ নয়। ইসলামের যে অংশটুকু গণতন্ত্রের শিক্ষা দেয় তাকে আমরা ইসলামী গণতন্ত্র বলতে পারি। যেমন সঙ্গীতের যে অংশটুকু ইসলামী অনুশাসন লংঘন করে না, তাকে আমরা ইসলামী সঙ্গীত বলতে পারি।
একেক দেশে একেক রকম গণতন্ত্র চালু রয়েছে। আর বাস্তবতা হল ইসলামের মধ্যে একরকমের গণতন্ত্র চর্চা করা হয়েছে। এটাই সঠিক এবং বাকি গুলো হারাম। সঙ্গীতের মধ্যে যেগুলো হালাল সেগুলোকে যেমন আমরা ইসলামী সঙ্গীত বলতে পারি তেমনি ইসলামে যে গণতান্ত্রিক শিক্ষা (যা ইসলামের বাইরে নয়, বরং ইসলাম যা শেখায়) রয়েছে তাকে আমরা ইসলামী গণতন্ত্র বলতে পারি (সামগ্রিকভাবে শুধুই ইসলাম)।
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-০৪ । By- Abdullah Al Tahsan )
[[রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের দেড় হাজার বছর পেরিয়ে গেছে । পৃথিবীতে এসেছে অনেক পরিবর্তন । মুসলমানরা হয়েছে খেলাফতহারা । মুসলিমরাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত জাতি । তবু থেমে থাকেনি পুনর্জাগরণের কাজ, আন্দোলন । অনেক নতুন প্রেক্ষাপট , নতুন পরিভাষা, নতুন মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে । এসব নিয়ে ছড়িয়েছে অনেক বিভ্রান্তি । গ্রহণ-বর্জনের দোলাচলে মুসলিম জাতি হয়েছে দ্বিধাবিভক্ত । এমনি একটি বিষয় –‘গনতন্ত্র’ । কেউ কেউ এটাকে একবাক্যে কুফর-শিরক বলে নাকচ করেছেন, কেউবা শর্তসাপেক্ষে গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন । কেউ কেউ সংস্কারের পক্ষে ।
এ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের মাঝে রয়েছে বিস্তর বিতর্ক । লিখেছেন অনেকেই । বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে স্ট্যাটাস আকারে পোস্ট করার চিন্তা করেছি । ইনশাআল্লাহ প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি করে পোস্ট দেয়ার চেষ্টা থাকবে । শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন । আশা করছি, সব প্রশ্নের জবাব মিলবে । আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন । আমীন । গতকালের পোস্ট-http://goo.gl/p47G8 ]]
‘ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন’ শীর্ষক সিরিজ স্ট্যাটাসের আজ পড়ুন পঞ্চম পর্ব ।
'জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস ' বাংলাদেশ সংবিধানের এই কথাটিই যত আপত্তির উৎস । এই কথার উপর ভিত্তি করেই গনতন্ত্র কুফর এবং শিরক বলা হচ্ছে ।
কথাটিকে যেভাবে শিরকের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বিষয়টি কি আসলেই সেরকম ?
হিজবুত তাহরির সহ কয়েকটি গোষ্ঠি এই বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছে যাতে মনে হয় এই বাক্যের মাধ্যমে জনগন বা জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে 'ইলাহ' বানানো হয়েছে । সত্যিই কি এটি বাস্তব ?
ইলাহ শব্দের অর্থগুলো কি? সৃষ্টিকর্তা , রিজিকদাতা , পালনকর্তা , আইনদাতা ইত্যাদি । 'জনগন'ই সৃষ্টিকর্তা , পালনকর্তা এই কথা কি সংবিধান প্রণেতারাও কেউ বিশ্বাস করে ? করেনা ।
তাহলে বাকি থাকলো কী ? কিছুলোককে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এই বক্তব্য !
নির্বাচনের মাধ্যমে কাউকে সংসদে পাঠানো মানেই কি এমন যে তারা যে আইনই করুক তাই আমরা বা জনগন নির্দ্বিধায় মেনে নেবো ?
সেরকম তো হচ্ছেনা । বরং সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটা রুপরেখা জনগনের সামনে পেশ করে যে তারা সরকার পরিচালনার ক্ষমতা পেলে কীভাবে পরিচালনা করবে । অধিকাংশ জনগন সম্মত হলেই পরে তারা ক্ষমতা পাচ্ছে । এরপরেও যদি কোন আইন বা আদেশ এমন হয় যা কুরআন সুন্নাহ বা জনগনের স্বার্থ -মতের বিরুদ্ধে তখন কিন্তু তারা প্রতিবাদ করছে । অর্থাত্ এই জনতা প্রকৃতপক্ষে সরকার বা সংসদকে সার্বভৌম হিসেবে বিশ্বাস করেনা ।
আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি । তাই যেকোন বিবাদ বিসম্বাদে যখন কোন আয়াত বা হাদিস পাওয়া যায় তখন আমরা সেটাকেই চূড়ান্ত রায় বলে নির্দ্বিধায় মেনে নেই । কোন প্রতিবাদ করিনা । এটাকেই বলে সার্বভৌমত্ব। অর্থাত্ বাস্তবে কোন সরকার বা সংসদকেই সার্বভৌম বলা যাচ্ছেনা ।
তাহলে ঐ 'জনগন সকল ক্ষমতার উত্সল' এই কথার ব্যাখ্যা কী ? এর ব্যাখ্যা হলো দেশের প্রশাসন কারা পরিচালনা করবে সেটা নির্ধারিত হবে জনগনের মতামতের ভিত্তিতে । এটুকুই । এর বাইরে কী ক্ষমতা আছে জনগনের ?
আপনি যে কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন যে '' জনগন সকল ক্ষমতার উত্স।' এর অর্থ বলতে আসলে কী বুঝায় ? এর বাস্তব প্রয়োগ কোথায় ?
আসলে উপরোক্ত সহজ কথাটাই এর ব্যাখ্যা । অযথা ভজঘট ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর কোন দরকার নাই ।
জনগনের শাসক , জনগনের নেতা নির্বাচনে জনগনের 'মতামত নেওয়া' টাকে আমি যৌক্তিক মনে করি । এবং এটাতে ইসলামের মূলনীতি বিরুদ্ধ কিছু পাইনা । তবে হ্যা , জনগন যাদের ব্যাপারে মতামত দিতে পারবে তাদের কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা অবশ্যই থাকতে হবে । ঐসব নির্দিষ্ট যোগ্যতা যাদের নেই তাদের ব্যাপারে মত এলে বাতিল বলে গন্য হবে । (এইরকম বিধিনিষেধ এখনো আছে । নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়মে ভোট না দিলে যেকোন ভোট বাতিল হয় ।)
এটা পরিস্কার হয়েছে যে 'জনগন সকল ক্ষমতার উত্সয' কথাটি প্রকৃতপক্ষে একটি রাজনৈতিক রুপক মাত্র । তবু এই কথাটিকে সরাসরি এইভাবে গ্রহণ করাটা কঠিন এবং সন্দেহজনক । এটাকে ভাষাগত পরিবর্তন এনে ভিন্নভাবে লিখতে হবে । এটা সত্য ,বাংলাদেশ সংবিধান কুরআন হাদিসের ভিত্তিতে রচিত নয় । বাংলাদেশ সরকারও কোন ইসলামী সরকার নয় । কিন্তু এই 'জনগন সকল ক্ষমতার উত্স।' রুপক/ভুলভাবে প্রকাশিত কথাটি আছে বলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই 'কুফরি' , এমনটি যারা বলছেন তাদের সাথে আমি একমত নই । (তারা কিভাবে দ্বিমুখী আচরণ করছেন তা পরবর্তী স্ট্যাটাসে দেখানো হবে ইনশাআল্লাহ) ।
আচ্ছা, ইসলামী রাষ্ট্র/খিলাফত ব্যবস্থায় 'খলিফা' নিযুক্ত হবেন কীভাবে ? সরাসরি তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিয়োগ দিবেন না । মানুষই নির্বাচিত বা মনোনীত করবে । মজলিশে শূরার সদস্যরা কীভাবে নিযুক্ত হবেন ? মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই তো ! ( মানুষের মধ্যে হয়তো গ্রহণযোগ্য/ শিক্ষিত একটা গোষ্ঠি ! আমেরিকার ইলেকটোরাল কলেজ সিস্টেমটা অনেকটা সেরকম )
কিন্তু ঐযে মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই কিছু মানুষকে ক্ষমতা দেয়া হলো (খলিফা /গভর্নর /মজলিশে শুরা সদস্য নিয়োগ) সেটাতে কি আপাতদৃষ্টিতে মানুষই ক্ষমতার উত্সে হয়ে গেলো না ?
প্রশ্নঃ ১।
ক. এই বাড়ির সর্বময় কতা নাসির সাহেব ।
খ. এই জমির মালিক আমি ।
আমাদের দেশে এভাবে বলা হয়, লেখা হয় । লিখিত দলিলও করা হয় । এভাবে বলা কি কুফরি হবে ?
ইসলামী রাষ্ট্রেও একটা সর্বোচ্চ পরিষদ থাকতে হবে যারা যেকোন বিরোধ বা সমস্যা নিষ্পত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রাখবে । এই 'সর্বোচ্চ' শব্দটা বলাটা কি কুফরি ? অথচ সবাই জানে যে এটা 'আপাতঃভাবে' বলা হচ্ছে ।
প্রশ্নঃ ২। মানুষের মতামত নেওয়াটাই যদি শিরক হয় তাহলে কি হযরত ওসমান (রাঃ) শিরকের মাধ্যমে খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন ?(নাউযুবিল্লাহ)
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-০৫ । By- Muhsin Abdullah Mu )
গতকালের পোস্ট- http://goo.gl/ZorK6
'জনগনই সকল ক্ষমতার উৎস ' বাংলাদেশ সংবিধানের এই কথাটিই যত আপত্তির উৎস । এই কথার উপর ভিত্তি করেই গনতন্ত্র কুফর এবং শিরক বলা হচ্ছে ।
কথাটিকে যেভাবে শিরকের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বিষয়টি কি আসলেই সেরকম ?
হিজবুত তাহরির সহ কয়েকটি গোষ্ঠি এই বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরছে যাতে মনে হয় এই বাক্যের মাধ্যমে জনগন বা জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে 'ইলাহ' বানানো হয়েছে । সত্যিই কি এটি বাস্তব ?
ইলাহ শব্দের অর্থগুলো কি? সৃষ্টিকর্তা , রিজিকদাতা , পালনকর্তা , আইনদাতা ইত্যাদি । 'জনগন'ই সৃষ্টিকর্তা , পালনকর্তা এই কথা কি সংবিধান প্রণেতারাও কেউ বিশ্বাস করে ? করেনা ।
তাহলে বাকি থাকলো কী ? কিছুলোককে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এই বক্তব্য !
নির্বাচনের মাধ্যমে কাউকে সংসদে পাঠানো মানেই কি এমন যে তারা যে আইনই করুক তাই আমরা বা জনগন নির্দ্বিধায় মেনে নেবো ?
সেরকম তো হচ্ছেনা । বরং সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটা রুপরেখা জনগনের সামনে পেশ করে যে তারা সরকার পরিচালনার ক্ষমতা পেলে কীভাবে পরিচালনা করবে । অধিকাংশ জনগন সম্মত হলেই পরে তারা ক্ষমতা পাচ্ছে । এরপরেও যদি কোন আইন বা আদেশ এমন হয় যা কুরআন সুন্নাহ বা জনগনের স্বার্থ -মতের বিরুদ্ধে তখন কিন্তু তারা প্রতিবাদ করছে । অর্থাত্ এই জনতা প্রকৃতপক্ষে সরকার বা সংসদকে সার্বভৌম হিসেবে বিশ্বাস করেনা ।
আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি । তাই যেকোন বিবাদ বিসম্বাদে যখন কোন আয়াত বা হাদিস পাওয়া যায় তখন আমরা সেটাকেই চূড়ান্ত রায় বলে নির্দ্বিধায় মেনে নেই । কোন প্রতিবাদ করিনা । এটাকেই বলে সার্বভৌমত্ব। অর্থাত্ বাস্তবে কোন সরকার বা সংসদকেই সার্বভৌম বলা যাচ্ছেনা ।
তাহলে ঐ 'জনগন সকল ক্ষমতার উত্সল' এই কথার ব্যাখ্যা কী ? এর ব্যাখ্যা হলো দেশের প্রশাসন কারা পরিচালনা করবে সেটা নির্ধারিত হবে জনগনের মতামতের ভিত্তিতে । এটুকুই । এর বাইরে কী ক্ষমতা আছে জনগনের ?
আপনি যে কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন যে '' জনগন সকল ক্ষমতার উত্স।' এর অর্থ বলতে আসলে কী বুঝায় ? এর বাস্তব প্রয়োগ কোথায় ?
আসলে উপরোক্ত সহজ কথাটাই এর ব্যাখ্যা । অযথা ভজঘট ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর কোন দরকার নাই ।
জনগনের শাসক , জনগনের নেতা নির্বাচনে জনগনের 'মতামত নেওয়া' টাকে আমি যৌক্তিক মনে করি । এবং এটাতে ইসলামের মূলনীতি বিরুদ্ধ কিছু পাইনা । তবে হ্যা , জনগন যাদের ব্যাপারে মতামত দিতে পারবে তাদের কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা অবশ্যই থাকতে হবে । ঐসব নির্দিষ্ট যোগ্যতা যাদের নেই তাদের ব্যাপারে মত এলে বাতিল বলে গন্য হবে । (এইরকম বিধিনিষেধ এখনো আছে । নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়মে ভোট না দিলে যেকোন ভোট বাতিল হয় ।)
এটা পরিস্কার হয়েছে যে 'জনগন সকল ক্ষমতার উত্সয' কথাটি প্রকৃতপক্ষে একটি রাজনৈতিক রুপক মাত্র । তবু এই কথাটিকে সরাসরি এইভাবে গ্রহণ করাটা কঠিন এবং সন্দেহজনক । এটাকে ভাষাগত পরিবর্তন এনে ভিন্নভাবে লিখতে হবে । এটা সত্য ,বাংলাদেশ সংবিধান কুরআন হাদিসের ভিত্তিতে রচিত নয় । বাংলাদেশ সরকারও কোন ইসলামী সরকার নয় । কিন্তু এই 'জনগন সকল ক্ষমতার উত্স।' রুপক/ভুলভাবে প্রকাশিত কথাটি আছে বলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই 'কুফরি' , এমনটি যারা বলছেন তাদের সাথে আমি একমত নই । (তারা কিভাবে দ্বিমুখী আচরণ করছেন তা পরবর্তী স্ট্যাটাসে দেখানো হবে ইনশাআল্লাহ) ।
আচ্ছা, ইসলামী রাষ্ট্র/খিলাফত ব্যবস্থায় 'খলিফা' নিযুক্ত হবেন কীভাবে ? সরাসরি তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নিয়োগ দিবেন না । মানুষই নির্বাচিত বা মনোনীত করবে । মজলিশে শূরার সদস্যরা কীভাবে নিযুক্ত হবেন ? মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই তো ! ( মানুষের মধ্যে হয়তো গ্রহণযোগ্য/ শিক্ষিত একটা গোষ্ঠি ! আমেরিকার ইলেকটোরাল কলেজ সিস্টেমটা অনেকটা সেরকম )
কিন্তু ঐযে মানুষের মতামতের ভিত্তিতেই কিছু মানুষকে ক্ষমতা দেয়া হলো (খলিফা /গভর্নর /মজলিশে শুরা সদস্য নিয়োগ) সেটাতে কি আপাতদৃষ্টিতে মানুষই ক্ষমতার উত্সে হয়ে গেলো না ?
প্রশ্নঃ ১।
ক. এই বাড়ির সর্বময় কতা নাসির সাহেব ।
খ. এই জমির মালিক আমি ।
আমাদের দেশে এভাবে বলা হয়, লেখা হয় । লিখিত দলিলও করা হয় । এভাবে বলা কি কুফরি হবে ?
ইসলামী রাষ্ট্রেও একটা সর্বোচ্চ পরিষদ থাকতে হবে যারা যেকোন বিরোধ বা সমস্যা নিষ্পত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রাখবে । এই 'সর্বোচ্চ' শব্দটা বলাটা কি কুফরি ? অথচ সবাই জানে যে এটা 'আপাতঃভাবে' বলা হচ্ছে ।
প্রশ্নঃ ২। মানুষের মতামত নেওয়াটাই যদি শিরক হয় তাহলে কি হযরত ওসমান (রাঃ) শিরকের মাধ্যমে খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন ?(নাউযুবিল্লাহ)
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-০৫ । By- Muhsin Abdullah Mu )
গতকালের পোস্ট- http://goo.gl/ZorK6
‘ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন’ শীর্ষক সিরিজ স্ট্যাটাসের আজ পড়ুন ৬ষ্ঠ পর্ব ।
>> গণতন্ত্র কুফরি এর মূল কারণ বলা হচ্ছে দুইটা-
১) গণতন্ত্রে বলা হয়ে থাকে যে 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' ।
২) গণতন্ত্রের পার্লামেন্টে সংখ্যাধিক্য ফলো করে।
ফলে সংখ্যাধিক্যের জোরে হালালের হারাম হয়ে যাওয়া কিংবা হারামের হালাল হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন ধরুন সমকামিতার মতো বিষয়গুলি।
মূলত এই দুটি বিষয় ছাড়া গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের ব্যাপক মিল আছে। গণতন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়,অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে শেখায়, বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা দেয়, শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে, জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করে। এই বিষয়গুলিতে ইসলামের আপত্তি নেই বরং এই বিষয়গুলির প্রতি ইসলাম যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছে। যেমন বলা যায় মজলিশে শূরার কথা।
এখন দেখা যাক গণতন্ত্রের কুফরি অংশগুলো আমরা কিভাব দূর করবোঃ
গণতন্ত্র ব্যবস্থার দুটো component হলো-
১) voting system এ দলের ক্ষমতায় যাওয়া
২) সংবিধান ও পার্লামেন্ট
১ নং পয়েন্টের ব্যাপারে বলা যায় voting নিয়ে ইসলামের আপত্তি নেই।
খুলাফায়ে রাশেদিন ও তৎপরবর্তী যুগের ন্যায়পন্হী খলিফারা (রাজতান্ত্রিকরা নয়) জনগণের ভোটেই ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন যদিও প্রকৃতিগত পার্থক্য ছিল। ঐ সময় জনগণ যার হাতে বাইয়াত নিতেন তিনি খলিফা হতেন।
অর্থাৎ জনগণের মতামত গণ্য করা হতো । দেখতে পারেন উমার ইবনে আবদুল আজিজের (রহ)
খিলাফাতের ঘটনা । যারা এর বিরোধিতা করে তাদের জিজ্ঞেস করেন তাদের কথিত খলিফা কিভাবে নিযুক্ত হবেন ? জোরপূর্বক নাকি অহীর মাধ্যমে?
একটি আপত্তি তোলা হয়ে থাকে যে জনগণ অজ্ঞতার কারণে বা অন্য কোন কারণে সঠিক ব্যক্তিকে
vote নাও দিতে পারেন। এর উত্তরে আমরা বলবো-
ক)দাওয়াতি কাজতো এ জন্যই, জনগণকে ইসলাম বুঝানোর জন্য, সতর্ক করার জন্য
খ)প্রচলিত ব্যবস্থায়ও রাষ্ট্রপ্রধান ও সদস্য প্রার্থীদের প্রার্থীতার উপর বিভিন্ন শর্তারোপ করা হয়ে থাকে যেমন বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সম্পত্তি। প্রার্থীতার উপর কিছু দ্বীনি criteria (যেমন দ্বীনি ইলম, আমল, আখলাক) সংযুক্ত করা যেতে পারে
গ) অনুরূপভাবে ভোটারদের ক্ষেত্রেও কিছু দ্বীনি শর্তারোপ করা যেতে পারে
ঘ)শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামীকরণ করা এবং ইসলামী রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা, রাষ্ট্র ও জনগণের ভূমিকা ও অবহেলার পরিণামের মতো বিষয়গুলো সংযুক্ত করা
আরো একটি অভিযোগ করা হয়ে থাকে যে voting system এ তো একটি ইসলামী দল বারবার পরাজিত হতে পারে বা সফল নাও হতে পারে। আমি বলি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমেও একই ঘটনা ঘটতে পারে এবং ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। আবার বলা হয় voting এ ইসলামপন্থীরা একবার ক্ষমতায় এসে পাঁচবছর পর ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে। আমি বলি সশস্ত্র বিপ্লবের পদ্ধতিতেতো ৫ বছরের আগেই ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে এবং এর সম্ভাবনাই বেশি, ইতিহাস এ কথারই সাক্ষ্য দেয়। একবার ভাবুনতো সশস্ত্র বিপ্লব ঘটাতে গিয়ে আপনি ব্যর্থ হলেন কিংবা বিপ্লব ঘটিয়ে পরবর্তীতে একটি কুফরি শক্তির কাছে পরাজিত হলেন, ভাবুনতো কী ঘটতে পারে??
২ নং পয়েন্টে আসি। ইসলামপন্থীরা বিজয়ী হলে সংবিধানে প্রথমেই উল্লেখ করবে-
"আল্লাহ সকল ক্ষমতার মালিক এবং উৎস।" ফলে কুফরির অভিযোগের ১ম পয়েন্ট দূর হলো।
কুফরির অভিযোগের ২য় পয়েন্টটা হলো পার্লামেন্টে সংখ্যাধিক্যের জোরে হারাম হালাল হয়ে যাওয়া। এই সমস্যার সমাধানের জন্য just সংবিধানে একটি অতিরিক্ত ধারা যোগ করতে হবে যাতে উল্লেখ থাকবে-
"কুরআন সুন্নাহ বিরোধী যেকোন আইন সর্বান্তক্রমে বাতিল হবে, এমনকি ১০০% সাংসদ ঐ বিধানের
পক্ষে থাকলেও।" এতে করে সংসদ কার্যত making of law থেকে অব্যাহতি পাবে।
ফলত দেখা যাচ্ছে যে কুফরির অভিযোগের দুটি পয়েন্টই কার্যত invalid হবে।
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-০৬ । By- jakir )
গতকালের পোস্ট- http://goo.gl/gCiSM
>> গণতন্ত্র কুফরি এর মূল কারণ বলা হচ্ছে দুইটা-
১) গণতন্ত্রে বলা হয়ে থাকে যে 'জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস' ।
২) গণতন্ত্রের পার্লামেন্টে সংখ্যাধিক্য ফলো করে।
ফলে সংখ্যাধিক্যের জোরে হালালের হারাম হয়ে যাওয়া কিংবা হারামের হালাল হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন ধরুন সমকামিতার মতো বিষয়গুলি।
মূলত এই দুটি বিষয় ছাড়া গণতন্ত্রের সাথে ইসলামের ব্যাপক মিল আছে। গণতন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেয়,অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে শেখায়, বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা দেয়, শাসকদের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করে, জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করে। এই বিষয়গুলিতে ইসলামের আপত্তি নেই বরং এই বিষয়গুলির প্রতি ইসলাম যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছে। যেমন বলা যায় মজলিশে শূরার কথা।
এখন দেখা যাক গণতন্ত্রের কুফরি অংশগুলো আমরা কিভাব দূর করবোঃ
গণতন্ত্র ব্যবস্থার দুটো component হলো-
১) voting system এ দলের ক্ষমতায় যাওয়া
২) সংবিধান ও পার্লামেন্ট
১ নং পয়েন্টের ব্যাপারে বলা যায় voting নিয়ে ইসলামের আপত্তি নেই।
খুলাফায়ে রাশেদিন ও তৎপরবর্তী যুগের ন্যায়পন্হী খলিফারা (রাজতান্ত্রিকরা নয়) জনগণের ভোটেই ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন যদিও প্রকৃতিগত পার্থক্য ছিল। ঐ সময় জনগণ যার হাতে বাইয়াত নিতেন তিনি খলিফা হতেন।
অর্থাৎ জনগণের মতামত গণ্য করা হতো । দেখতে পারেন উমার ইবনে আবদুল আজিজের (রহ)
খিলাফাতের ঘটনা । যারা এর বিরোধিতা করে তাদের জিজ্ঞেস করেন তাদের কথিত খলিফা কিভাবে নিযুক্ত হবেন ? জোরপূর্বক নাকি অহীর মাধ্যমে?
একটি আপত্তি তোলা হয়ে থাকে যে জনগণ অজ্ঞতার কারণে বা অন্য কোন কারণে সঠিক ব্যক্তিকে
vote নাও দিতে পারেন। এর উত্তরে আমরা বলবো-
ক)দাওয়াতি কাজতো এ জন্যই, জনগণকে ইসলাম বুঝানোর জন্য, সতর্ক করার জন্য
খ)প্রচলিত ব্যবস্থায়ও রাষ্ট্রপ্রধান ও সদস্য প্রার্থীদের প্রার্থীতার উপর বিভিন্ন শর্তারোপ করা হয়ে থাকে যেমন বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, সম্পত্তি। প্রার্থীতার উপর কিছু দ্বীনি criteria (যেমন দ্বীনি ইলম, আমল, আখলাক) সংযুক্ত করা যেতে পারে
গ) অনুরূপভাবে ভোটারদের ক্ষেত্রেও কিছু দ্বীনি শর্তারোপ করা যেতে পারে
ঘ)শিক্ষাব্যবস্থার ইসলামীকরণ করা এবং ইসলামী রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা, রাষ্ট্র ও জনগণের ভূমিকা ও অবহেলার পরিণামের মতো বিষয়গুলো সংযুক্ত করা
আরো একটি অভিযোগ করা হয়ে থাকে যে voting system এ তো একটি ইসলামী দল বারবার পরাজিত হতে পারে বা সফল নাও হতে পারে। আমি বলি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমেও একই ঘটনা ঘটতে পারে এবং ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। আবার বলা হয় voting এ ইসলামপন্থীরা একবার ক্ষমতায় এসে পাঁচবছর পর ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে। আমি বলি সশস্ত্র বিপ্লবের পদ্ধতিতেতো ৫ বছরের আগেই ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে এবং এর সম্ভাবনাই বেশি, ইতিহাস এ কথারই সাক্ষ্য দেয়। একবার ভাবুনতো সশস্ত্র বিপ্লব ঘটাতে গিয়ে আপনি ব্যর্থ হলেন কিংবা বিপ্লব ঘটিয়ে পরবর্তীতে একটি কুফরি শক্তির কাছে পরাজিত হলেন, ভাবুনতো কী ঘটতে পারে??
২ নং পয়েন্টে আসি। ইসলামপন্থীরা বিজয়ী হলে সংবিধানে প্রথমেই উল্লেখ করবে-
"আল্লাহ সকল ক্ষমতার মালিক এবং উৎস।" ফলে কুফরির অভিযোগের ১ম পয়েন্ট দূর হলো।
কুফরির অভিযোগের ২য় পয়েন্টটা হলো পার্লামেন্টে সংখ্যাধিক্যের জোরে হারাম হালাল হয়ে যাওয়া। এই সমস্যার সমাধানের জন্য just সংবিধানে একটি অতিরিক্ত ধারা যোগ করতে হবে যাতে উল্লেখ থাকবে-
"কুরআন সুন্নাহ বিরোধী যেকোন আইন সর্বান্তক্রমে বাতিল হবে, এমনকি ১০০% সাংসদ ঐ বিধানের
পক্ষে থাকলেও।" এতে করে সংসদ কার্যত making of law থেকে অব্যাহতি পাবে।
ফলত দেখা যাচ্ছে যে কুফরির অভিযোগের দুটি পয়েন্টই কার্যত invalid হবে।
(ইসলাম, গনতন্ত্র, খেলাফতঃ বিভ্রান্তি নিরসন । স্টাটাস-০৬ । By- jakir )
গতকালের পোস্ট- http://goo.gl/gCiSM
এখন আমি কিছু গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই ।
যেহেতু গনতন্ত্র, এমনকি নির্বাচনে অংশগ্রহণকেই কুফরি বলা হচ্ছে তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার অবৈধ বা শিরক । এখন গনতান্ত্রিক সরকার যে ট্যাক্স নেয় সেটাও অবৈধ ।
১. তাহলে এই সরকারকে ট্যাক্স দেয়া কুফরি কিনা?
২. এই সরকারের অধীনস্ত বিচারকরা যারা এই দেশের সংবিধানকে সমূচ্চ রাখার শপথ নেন এবং এই সংসদে পাশকৃত আইন অনুসারে বিচারকাজ চালান - তারা কাফের কিনা ?
৩. আইনজীবিরা আদালতকে সহযোগিতা করেন । নির্বাচনে অংশগ্রহণই যদি কুফরি হয় তাহলে আইনজীবিরা কাফের কিনা ?
৪. পুলিশ ছাড়া বিচার বিভাগ অচল । আবার পুলিশ , বিচার বিভাগ , সেনাবাহিনী ছাড়া সরকার অচল । তাহলে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীতে চাকরি করা কুফরি কিনা ?
৫. প্রশাসন , স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য সকল সরকারি বিভাগও ট্যাক্সের টাকায় চলে । যেকোন সরকারি চাকরির বেতন দেয়া হয় ট্যাক্সের টাকায় , কাফের রাষ্ট্রের অনুদানের টাকায়। সেই বেতন নেয়া হারাম এবং কুফরি কিনা ?
৬. সরকারি বেসরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় চলে সংসদের অনুমোদনে , সরকারের টাকায় । এসব প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস ইসলামী নয় । আছে সহশিক্ষা । তাহলে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া, সার্টিফিকেট নেয়া কুফরি কিনা ?
৭. মাদ্রাসাগুলোও সরকারি অনুদান/ বেতন নেয় । অনেক মসজিদও সরকারি বেতন অনুদানে চলে । ঐসব মাদ্রাসায় পড়ানো বা পড়াশোনা করা এবং ঐসব মসজিদে নামাজ পড়া কি কুফরি হবে ?
৮. এমনকি কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডও সরকারি অনুমোদন নিয়ে চলে । 'বেফাক' হলো কওমী মাদ্রাসার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি । হজ্ব করতে যাওয়ার জন্য সরকারি অনুমতি ও ব্যবস্থাপনা আছে । গনতান্ত্রিক সরকারের অনুমোদনে বা ব্যবস্থাপনায় হজ্ব করতে যাওয়া কি নাজায়েজ হবে ? হজ্ব করতে যাওয়ার সময় সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি ব্যাগ দেয়া হয় টাকা পয়সা রাখার জন্য যেটা বুকে বা কোমরে বেধে নিতে হয় । সুদী ব্যাংকের উপহার নিয়ে হজ্ব করা কি ঠিক হচ্ছে ?
...................
উপরের গুলো যদি কুফরি না হয় তাহলে শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা , যার মাধ্যমে বাতিল শক্তিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয় সেটাকে কুফরি বলার মাজেজা কী ?
আর যদি বলেন ওগুলো বাধ্য হয়ে করছেন , তাহলে অন্যরা যখন বলে আমরা এই অনৈসলামিক সংবিধান মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি কিন্তু পরিবর্তনের চেষ্টা করছি তখন সেটাকে কুফরি বলার এই দ্বিমুখীতা কেন ?
(বাধ্য হওয়ার বিষয়টাও আপেক্ষিক । রেড ইন্ডিয়ান ,এস্কিমোরা এবং অনেক উপজাতি জঙ্গলে থাকে । তাদের কোন গনতন্ত্র নাই , রাজতন্ত্র নাই । এরকম কোন জঙ্গলে গিয়ে নির্বিঘ্নে বসবাস করা যায় ! কিন্তু কথা হলো , ইসলাম কি সেটা করতে বলে ?)
___________গনতন্ত্র ও ইসলাম নিয়ে বিভ্রান্তিঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ(৭)
গনতন্ত্র কি জনগনের 'সার্বভৌমত্বের' কথা বলে ? অথবা গনতন্ত্রে 'জনগনের সার্বভৌমত্বের' ধারণা কি জরুরি ?
গনতন্ত্রকে সরাসরি নির্ভেজাল শিরক যারা বলছেন তারা এই বিষয়টিকেই গুরুতরভাবে উত্থাপন করছেন যে , গনতন্ত্র 'জনগনের সার্বভৌমত্বের' কথা বলে যেখানে প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ।
কিন্তু অধিকাংশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বা সমাজবিজ্ঞানীর মতে গনতন্ত্রে জনগনের সার্বভৌমত্বের ধারণা কোন আবশ্যক বিষয় নয় । অর্থাৎ এটি গনতন্ত্রের মূল বিষয় নয় । প্রকৃত ব্যাপারটা হলো গনতন্ত্রের মূলকথা 'জনগনের সার্বভৌমত্ব' নয়, বরং 'শাসনব্যবস্থায় জনগনের অংশীদারিত্ব বা অংশগ্রহণ' । প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া সংজ্ঞা আমরা একটু পরেই তুলে ধরবো ।
'জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স' এই কথাটি গনতন্ত্রের কোন মৌলিক বিষয় নয় । এটা বাংলাদেশের অতিউত্সাহী রাজনীতিকদের অতিরঞ্জিত বক্তব্য । মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি । প্রকৃত গনতান্ত্রিক দেশগুলোতে এরকম ধারণা নেই ।
আসুন দেখি বিশ্ববিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া গনতন্ত্রের সংজ্ঞাঃ-
¤ Democracy is not a way of governing whether by majority or otherwise but primarily a way of determining who shall govern and broadly to what ends..(Prof. R.M. MacIver )
- গনতন্ত্র বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের বা অন্য কারো দ্বারা শাসনকার্য পরিচালিত হওয়ার পদ্ধতিকে বোঝায় না, বরং প্রধানত এটা কে বা কারা পরিচালনা করবে এবং মোটামুটিভাবে কোন্ উদ্দেশ্যে শাসন করবে তা নির্ধারণ করারই উপায় বিশেষ ।
¤ Democracy implies that government which shall rest on the active consent of the governed....(Prof. C.F. Srong)
- যেখানে শাসনব্যবস্থা শাসিতের সক্রিয় সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত তাই গনতন্ত্র ।
¤ Democracy presupposes a fundamental agreement as to the methods by which political and social changes shall be brought about....(Prof. Carle. J. Friedrick)
- রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আনয়নের একটি প্রধান স্বীকৃত উপায় হলো গনতন্ত্র ।
¤ Democracy may either be a form of government, a form of state, a form of society, or a combination of all the three....(Prof. Giddings)
- গনতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা অথবা এসবের সম্মিলিত রুপ ।
¤ Democracy is an ideal, is a society of equals in the sense that each is an integral and irreplacable part of the whole....(Prof. C. D. Burns)
- গনতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকেই সমান এ অর্থে যে প্রত্যেকেই সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অংশ ।
¤ Democracy is a theory of society as well as a theory of government and from that point of view its main theme is liberty and equality....(Prof. Lindsay)
- গনতন্ত্র একাধারে একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রনৈতিক মতবাদ এবং সে হিসেবে এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো স্বাধীনতা ও সাম্য ।
¤ Democracy is that form of government in which the ruling of a state is legaly vested not in any particular class or classes, but in the members of the community as a whole.....(Prof. Lord bryce/ Modern democracies/ vol.1/p.20)
- গনতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যাতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা আইনগতভাবে কোন নির্দিষ্ট শ্রেণী বা শ্রেণীসমূহের হাতে নিয়োজিত না থেকে বরং সমাজের সকল সদস্যের হাতে নিয়োজিত থাকে ।
¤ Democracy is a government in which everyone has a share....(Prof. Seeley/ Introduction to political science)
- গনতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে ।
¤ গনতন্ত্র এমন এক ধরণের সরকার ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে যাতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা ব্যাপকভাবে সমাজের সকল সদস্যের উপর ন্যস্ত থাকে । (-হিরোডেটাস)
¤ Democracy is such a government in which governing is a comparatively large fraction of the total population....( Prof. Dicey)
- গনতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকবর্গ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।
¤ A democratic state is simply one in which the community as a whole posseses sovereign authority maintains ultimate control over affairs and determines what post of governmental machienary shall be set up because democracy as a form of state is not merely a mode of government but merely a mode of appointing controlling and dismissing government..... (Prof. Hearnshaw/ Democracy of the crossways/ p.20-21)
- গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সমগ্র সম্প্রদায়ের হাতে সার্বভৌম কর্তৃত্ব ন্যস্ত থাকে, সকল বিষয়ে সম্প্রদায়ের হাতে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান এবং সেটিই নির্ধারন করে কী ধরনের সরকারি যন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে । কেননা গনতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার পদ্ধতিই নিয়ন্ত্রণ করেনা বরং তা সরকারের নিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে ।
¤ Democracy is a system of government by discussion....( Barker)
- গনতন্ত্র একটি আলোচনা নির্ভর সরকারব্যবস্থা ।
¤ গনতন্ত্র বলতে আমরা সেই শাসনব্যবস্থাকে বুঝি যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সব বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সকলের মধ্যে নিজনিজ মত প্রকাশ করতে পারে । (-স্যার ক্রিপস)
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের Democracy is a government of the people, by the people and for the people....(Abraham Lincoln) কথাটিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় । কিন্তু এটি আসলে তিনি সংজ্ঞা হিসেবে দেননি । এটি তাঁর একটি রাজনৈতিক বক্তব্য বা শ্লোগান । তিনি গনতন্ত্রের প্রবক্তা বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ছিলেননা । ছিলেন একজন সফল রাজনীতিক আর পেশায় আইনজীবি । তিনি খুব ভালো বক্তৃতা করতেন । গেটিসবার্গ বক্তৃতা তাঁর একটি বিখ্যাত বক্তৃতা । অথচ তাঁর এই বক্তব্যটাকে গনতন্ত্রের সংজ্ঞা হিসেবে তুলে ধরে গনতন্ত্র মাত্রই শিরক বলার চেষ্টা করা হচ্ছে । যদিও এই বক্তব্যেও 'জনগনের সার্বভৌমত্ব' নয়, জনগনের অংশীদারিত্বে'র বিষয়টি ফুটে উঠেছে ।
এছাড়াও গনতন্ত্রের নানান রুপ- প্রত্যক্ষ গনতন্ত্র,পরোক্ষ গনতন্ত্র এগুলোরও রয়েছে নানারকম সংজ্ঞা । কোনটিই জনগনের 'সার্বভৌমত্ব'কে অত্যাবশ্যক হিসেবে চিহ্নিত করেনা । আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এখন পর্যন্ত গনতন্ত্রের কোন সর্বসম্মত সংজ্ঞা নেই ।
_________ গনতন্ত্র ও ইসলাম নিয়ে বিভ্রান্তিঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ(৯)
গনতন্ত্রকে সরাসরি নির্ভেজাল শিরক যারা বলছেন তারা এই বিষয়টিকেই গুরুতরভাবে উত্থাপন করছেন যে , গনতন্ত্র 'জনগনের সার্বভৌমত্বের' কথা বলে যেখানে প্রকৃতপক্ষে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ।
কিন্তু অধিকাংশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বা সমাজবিজ্ঞানীর মতে গনতন্ত্রে জনগনের সার্বভৌমত্বের ধারণা কোন আবশ্যক বিষয় নয় । অর্থাৎ এটি গনতন্ত্রের মূল বিষয় নয় । প্রকৃত ব্যাপারটা হলো গনতন্ত্রের মূলকথা 'জনগনের সার্বভৌমত্ব' নয়, বরং 'শাসনব্যবস্থায় জনগনের অংশীদারিত্ব বা অংশগ্রহণ' । প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া সংজ্ঞা আমরা একটু পরেই তুলে ধরবো ।
'জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স' এই কথাটি গনতন্ত্রের কোন মৌলিক বিষয় নয় । এটা বাংলাদেশের অতিউত্সাহী রাজনীতিকদের অতিরঞ্জিত বক্তব্য । মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি । প্রকৃত গনতান্ত্রিক দেশগুলোতে এরকম ধারণা নেই ।
আসুন দেখি বিশ্ববিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীদের দেয়া গনতন্ত্রের সংজ্ঞাঃ-
¤ Democracy is not a way of governing whether by majority or otherwise but primarily a way of determining who shall govern and broadly to what ends..(Prof. R.M. MacIver )
- গনতন্ত্র বলতে সংখ্যাগরিষ্ঠের বা অন্য কারো দ্বারা শাসনকার্য পরিচালিত হওয়ার পদ্ধতিকে বোঝায় না, বরং প্রধানত এটা কে বা কারা পরিচালনা করবে এবং মোটামুটিভাবে কোন্ উদ্দেশ্যে শাসন করবে তা নির্ধারণ করারই উপায় বিশেষ ।
¤ Democracy implies that government which shall rest on the active consent of the governed....(Prof. C.F. Srong)
- যেখানে শাসনব্যবস্থা শাসিতের সক্রিয় সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত তাই গনতন্ত্র ।
¤ Democracy presupposes a fundamental agreement as to the methods by which political and social changes shall be brought about....(Prof. Carle. J. Friedrick)
- রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আনয়নের একটি প্রধান স্বীকৃত উপায় হলো গনতন্ত্র ।
¤ Democracy may either be a form of government, a form of state, a form of society, or a combination of all the three....(Prof. Giddings)
- গনতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা, সমাজব্যবস্থা অথবা এসবের সম্মিলিত রুপ ।
¤ Democracy is an ideal, is a society of equals in the sense that each is an integral and irreplacable part of the whole....(Prof. C. D. Burns)
- গনতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকেই সমান এ অর্থে যে প্রত্যেকেই সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য ও অপরিহার্য অংশ ।
¤ Democracy is a theory of society as well as a theory of government and from that point of view its main theme is liberty and equality....(Prof. Lindsay)
- গনতন্ত্র একাধারে একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রনৈতিক মতবাদ এবং সে হিসেবে এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো স্বাধীনতা ও সাম্য ।
¤ Democracy is that form of government in which the ruling of a state is legaly vested not in any particular class or classes, but in the members of the community as a whole.....(Prof. Lord bryce/ Modern democracies/ vol.1/p.20)
- গনতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যাতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা আইনগতভাবে কোন নির্দিষ্ট শ্রেণী বা শ্রেণীসমূহের হাতে নিয়োজিত না থেকে বরং সমাজের সকল সদস্যের হাতে নিয়োজিত থাকে ।
¤ Democracy is a government in which everyone has a share....(Prof. Seeley/ Introduction to political science)
- গনতন্ত্র এমন এক ধরনের সরকার যেখানে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে ।
¤ গনতন্ত্র এমন এক ধরণের সরকার ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে যাতে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা ব্যাপকভাবে সমাজের সকল সদস্যের উপর ন্যস্ত থাকে । (-হিরোডেটাস)
¤ Democracy is such a government in which governing is a comparatively large fraction of the total population....( Prof. Dicey)
- গনতন্ত্র এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে শাসকবর্গ তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ।
¤ A democratic state is simply one in which the community as a whole posseses sovereign authority maintains ultimate control over affairs and determines what post of governmental machienary shall be set up because democracy as a form of state is not merely a mode of government but merely a mode of appointing controlling and dismissing government..... (Prof. Hearnshaw/ Democracy of the crossways/ p.20-21)
- গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সমগ্র সম্প্রদায়ের হাতে সার্বভৌম কর্তৃত্ব ন্যস্ত থাকে, সকল বিষয়ে সম্প্রদায়ের হাতে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ বিদ্যমান এবং সেটিই নির্ধারন করে কী ধরনের সরকারি যন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে । কেননা গনতন্ত্র শুধুমাত্র সরকার পদ্ধতিই নিয়ন্ত্রণ করেনা বরং তা সরকারের নিয়োগ, নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করে ।
¤ Democracy is a system of government by discussion....( Barker)
- গনতন্ত্র একটি আলোচনা নির্ভর সরকারব্যবস্থা ।
¤ গনতন্ত্র বলতে আমরা সেই শাসনব্যবস্থাকে বুঝি যেখানে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সব বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং সকলের মধ্যে নিজনিজ মত প্রকাশ করতে পারে । (-স্যার ক্রিপস)
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের Democracy is a government of the people, by the people and for the people....(Abraham Lincoln) কথাটিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় । কিন্তু এটি আসলে তিনি সংজ্ঞা হিসেবে দেননি । এটি তাঁর একটি রাজনৈতিক বক্তব্য বা শ্লোগান । তিনি গনতন্ত্রের প্রবক্তা বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ছিলেননা । ছিলেন একজন সফল রাজনীতিক আর পেশায় আইনজীবি । তিনি খুব ভালো বক্তৃতা করতেন । গেটিসবার্গ বক্তৃতা তাঁর একটি বিখ্যাত বক্তৃতা । অথচ তাঁর এই বক্তব্যটাকে গনতন্ত্রের সংজ্ঞা হিসেবে তুলে ধরে গনতন্ত্র মাত্রই শিরক বলার চেষ্টা করা হচ্ছে । যদিও এই বক্তব্যেও 'জনগনের সার্বভৌমত্ব' নয়, জনগনের অংশীদারিত্বে'র বিষয়টি ফুটে উঠেছে ।
এছাড়াও গনতন্ত্রের নানান রুপ- প্রত্যক্ষ গনতন্ত্র,পরোক্ষ গনতন্ত্র এগুলোরও রয়েছে নানারকম সংজ্ঞা । কোনটিই জনগনের 'সার্বভৌমত্ব'কে অত্যাবশ্যক হিসেবে চিহ্নিত করেনা । আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এখন পর্যন্ত গনতন্ত্রের কোন সর্বসম্মত সংজ্ঞা নেই ।
_________ গনতন্ত্র ও ইসলাম নিয়ে বিভ্রান্তিঃ প্রেক্ষিত বাংলাদেশ(৯)
গণতন্ত্রঃ একটি জীবন ব্যবস্থা(দ্বীন)! = http://www.sendspace.com/file/4ah4ia

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, ভোটদানের তীব্র সমালোচনা এবং এই বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি= http://www.sendspace.com/file/8wfbnu

ইসলামের দৃষ্টিতে- গণতন্ত্রের সংশয় সমূহ- http://www.sendspace.com/file/e485l5

মানব রচিত আইন দ্বারা বিচার করা”- ছোট কুফ্র না বড় কুফ্র? ইব্ন আব্বাস (রা)-এর বক্তব্যের বিশদ ব্যাখ্যা= http://www.sendspace.com/file/a83f1r

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন